
দুর্ভোগে ফরিদগঞ্জ পূর্বাঞ্চলের ১০ গ্রামের মানুষ
নারায়ন রবিদাস :
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক-ফকিরবাজার সেতু ও সড়কের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ভেঙে পড়েছে উপজেলার পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসায়ের মত নানা গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন কাজে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে পাল্লা দিয়ে।
জানা যায়, উপজেলার পূর্বাঞ্চলের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর, মানরী, গুয়াটোবা, ঘনিয়া, শ্রীকালিয়া, বৈচাতলী, দিগদাইর, বালিমুড়া, ফকিরবাজারসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ গল্লাক-ফকিরবাজার সেতু ও সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সেতু আর সড়কের জরাজীর্ণ দশা এবং বিকল্প সড়ক না থাকায় উপজেলার ভেতরে বাইরে এ ১০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগে নাভিশ^াস উঠেছে।
গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম (৭০) জানিয়েছেন, গল্লাক-ফকিরবাজার সেতুটি ৫০ বছর বা তারও আগে নির্মাণ করা হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সেতুর রেলিং ভেঙে পড়েছে। সেতুর তলদেশের পলেস্তরা খসে পড়েছে। স্থানীদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময় সংস্কার করে সেতুটিতে কোন রকম চলাচল টিকিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তামানে সেতুটি শুধুমাত্র পায়ে হেঁটে চলাচল উপযোগী। বিভিন্ন সময়ে সেতুটি সংস্কারে অনেক জনপ্রতিনিধি প্রতিশ্রুতি দিলেও, সে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি।
সেতুর পাশাপাশি দুর্ভোগের কমতি নেই গল্লাক-ফকিরবাজার সড়কেও। গল্লাক বাজার থেকে শুরু করে ২৭০০ মিটার সংযোগ সড়কের অবস্থা নিতান্তই শোচনীয়। ফলে সড়কটিতে অটোরিক্সা, রিক্সা চলাচল হ্রাস পেয়েছে। বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে এ সড়কের যাত্রীদের। সড়কের দুরবস্থার কারণে এ অঞ্চলের রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় অনেকটা ধস নামিয়ে এনেছে সেতু ও সড়কের নাজুক পরিস্থিতি। সড়ক ও সেতুর এহেন অবস্থায় নিয়মিত দুর্ভোগের শিকার পূর্বাঞ্চলের দেড় সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী।
গল্লাক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহীন সুলতান জানিয়েছেন, গল্লাক বাজারে একটি ডিগ্রি কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মাদ্রাসা রয়েছে। এ চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ ভাগ শিক্ষার্থীকেই গল্লাক-ফকিরবাজার সড়ক হয়ে সেতু পাড়ি দিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। আমাদের অনেক শিক্ষককেও বাধ্য হয়ে ব্যবহার করেন এ সেতু ও সড়ক। সময়মত যানবাহন না পাওয়া অথবা অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে হেঁটে আসায় প্রতিদিনই অনেক শিক্ষার্থীর আসতে বিলম্ব হয়। তাছাড়া সেতুটি এতই ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, যেন যে কোন সময় ভেঙে পড়বে। প্রায় ক্ষেত্রেই অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। যে কোন সময় যদি শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ মানুষসহ সেতুটি ভেঙে পড়ে প্রাণহাণী ঘটে, দায়িত্বশীল মহল কি তখন দায় এড়াতে পারবেন?
সেতু ও সড়কের বিষয়ে প্রায় একই রকম মন্তব্য করেছেন অপর তিন প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এলাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
সেতু ও সড়ক সংস্কারের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ড. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকায় ‘আজিজ এন্ড ব্রাদার্স’ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সেতুটি সংস্কারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শীঘ্রই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে। গল্লাক-ফকিরবাজারের ২৭০০ মিটার সড়ক সংস্কারের বিষয়টি টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন।
