চাঁদপুরে আমরণ অনশনে মহিলা অধিদপ্তরের ৪ কর্মী

 

স্টাফ রিপোর্টার
জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওয়তায় চাঁদপুর মহিলা বিষয়ক অধিপ্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ নারী কর্মী তাদের নিয়োগ বহাল রাখার দাবিতে আমরণ অনশনে বসে। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ অনশন শুরু করে।
তাদের অভিযোগ, সারাদেশে তাদের সাথে নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরিতে বহাল থাকলেও ঘুষের বিনিময়ে চাঁদপুরে নতুন লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, আমরা প্রশাসনের দরজায় অনেক ঘুরেছি। তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তাই উপায়ন্ত না পেয়ে এখন অনশনে বসতে হয়েছে। আমাদের দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত আমরা অনশনে থাকবো।
বিকেলে জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ তাদের বিষয়টির সমাধানের আশ্বাসে অনশন ভঙ্গ করেন ভুক্তভোগীরা।
এর আগে গত রোববার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগীরা হলেন- ব্লগবাটি শামীমা নাছরিন, দর্জি বিজ্ঞান সালমা আক্তার, কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা, বিউটিফিকেশন রুমা আক্তার। এছাড়া এরমধ্যে হাসনা আক্তার (মোম ও সোপিস) মৃত্যুবরণ করেন।
অনশনে বসা ভুক্তভোগী ট্রেড প্রশিক্ষক শামীমা নাছরিন বলেন, আমরা ৫ জন প্রশিক্ষক ২০১৪ সালে মহিলা বিষযক অধিদপ্তরে ট্রেড প্রশিক্ষক পদে যোগদান করি। প্রতিবছর আমাদের এই পদের নবায়ন করা হয় এবং সারাদেশে এই প্রজেক্টটি চলমান রয়েছে। এ কারণে সরকার এই প্রকল্পটি বাদ দেয়নি, তাই আমাদেরও বাদ দেয়নি। আমরা এখনো চাকরিতে বহাল আছি। শুধু তাই নয়, সারাদেশের ৬৩ জেলায় পুরনো লোকদের দিয়েই কাজ করা হচ্ছে এবং তাদের চাকরিতে বহাল রাখা হয়েছে। তাহলে কেনো চাঁদপুরে আমাদের বাদ দিয়ে নতুন করে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এমনকি আমি নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করলেও তারা আমাকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। আমার আবেদন পত্রটিও উধাও হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমাদের অব্যাহতি দেয়া হয়নি। চাঁদপুর মহিলা অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার সাজিয়া আফরিন বার-বার আমাদের বাদ দেয়ার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তিনি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাদের পদে নতুন করে লোক নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া চালান। যার প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগের জন্য নতুন করে পরীক্ষা নেন এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা রয়েছেন। এগুলো সম্পন্ন হলে আমদের বাদ দিয়ে নতুনদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাফিয়া ইকবাল আমাদের বলেছেন, আমাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন সমস্যা নেই। তাহলে কেনো নতুন করে এমন নিয়োগ দেয়া হলো?
সাংবাদিক সম্মেলন শামীমা নাছরিন আরো বলেন, আমার নতুন নিয়োগের বিষয়ে মহিলা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রী মহোদয় এবং চাঁদপুরের জেলা প্রশাসককে জানাই। তারা সবাই আমাদের বক্তব্য শুনে আমাদের পক্ষে সুপারিশ করেন। এমনকি ইতোপূর্বে আমাদের স্থানীয় সাংসদ ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে বিষয়টি জানালে তিনিও আমাদের পক্ষে সুপারিশ করেন।
বিউটিফিকেশন রুমা আক্তার বলেন, আমরা নিয়মিত অফিস করেছি। তারপরও ২০১৮ সাল থেকে আমাদের বেতন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের যদি অব্যাহতি দিত তাহলে আমি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতাম। আমাদের উপর এ অন্যায়ের বিচার চাই।
এর আগে রোববার চাঁদপুর প্রেসক্লাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ট্রেড প্রশিক্ষণ নিয়োগ বন্ধের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভূক্তভুগীরা। এতে প্রশিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আমাদের চাকরি থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র চলছে।
২৬ জানুয়ারি, ২০২১।