স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস কর্তৃক সাংবাদিকদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠছে। খোদ জেলা নির্বাচন অফিসারের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ উঠছে স্থানীয় সাংবাদিক ও পত্রিকা সম্পাদকদের কাছ থেকে। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছে, চাঁদপুরের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও প্রশাসনিক কর্মকার্তাদের সাথে সাংবাদিকদের সৌহার্দ্য সম্পর্ক অনেকটা প্রকাশ্য। কিন্তু বিধিবাম আজকের চাঁদপুর পৌর নির্বাচন সংগ্রহ (কভার) করার জন্য চাঁদপুরের সাংবাদিকরা যথানিয়মে পর্যবেক্ষণ কার্ড ও মোটরসাইকেল স্টিকারের আবেদন করেন।
চাঁদপুরের স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দাবি করছেন, জেলায় জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনেই স্থানীয় পত্রিকার সংবাদকর্মীরা কার্ড ও স্টিকার পেয়ে আসছে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো কেবল আজকের চাঁদপুর পৌর নির্বাচনের কার্ড ও স্টিকার নিয়ে। নির্বাচন কর্মকর্তা তার খাম খেয়ালিপনার কারণে অনেক সাংবাদিক পায়নি পর্যবেক্ষণ কার্ড। আবার কেউ কার্ড পেয়েছেন, পাননি তার মোটরসাইকেল স্টিকার।
এমন অভিযোগের বিষয়টি জানতে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল আহম্মেদের সাথে মোবাইল ফোন ও তার অফিসিয়াল বিটিসিএল ল্যান্ডফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তিনি কি কারণে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ কার্ডের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের স্টিকার ইস্যু করেননি, তা জানা সম্ভব হয়নি।
তবে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, এই কর্মকর্তা কৌশলগত কারণে মোটরসাইকেল স্টিকার না দিয়ে ৪ চাকা যানের স্টিকার নিতে সংবাদকর্মীদের অনুরোধ করেন। কিন্তু সংবাদকর্মীদের জানান, স্থানীয় সাংবাদিকদের ৪ চাকার যান থাকার কথা নয়। তারা বলছে, ইতোপূর্বে সব নির্বাচনেই ৪ চাকার মোটরযানের স্টিকারই মোটরসাইকেল স্টিকার হিসেবে দিয়ে আসছে নির্বাচন অফিস। কেবল এই পৌর নির্বাচনে অফিসটি খামখেয়ালিপনা ও নিজদের আধিপত্যের জানান দিল তারা। তাও আবার সংবাদকর্মীদের সাথে।
স্থানীয় অনেক সংবাদকর্মী জানান, জেলা নির্বাচন অফিস হতে ইস্যুকৃত সাংবাদিক কার্ডে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ লেখা পুরাতন কার্ডের উপর চাঁদপুর পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন-২০২০ লেখা সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে সরবরাহ করেছে। অথচ সব নির্বাচনেই নির্ধারিত ছাপানো কার্ড সংগ্রহ করে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে সরবরাহ করতো জেলা নির্বাচন অফিস।
বহুল আলোচিত আজকের চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে স্থানীয় পত্রিকার অনেক সাংবাদিকের কেউ কেউ কার্ড পেলেও পায়নি মোটরসাইকেল স্টিকার। আবার কেউই পায়নি কার্ড কিংবা মোটরসাইকেলের স্টিকার। আবার দেখা যাচ্ছে নামকাওয়াস্তে বা সাংবাদিক নামধারীদের নামেও কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। তারা দ্রুত সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে নিজেদের সাংবাকিতা জাহির করছে। বিশেষ করে অনলাইন নামের ভুয়া ও তথাকথিত সাংবাদিকরাই ঐ কাজটি বেশি করছে।
১০ অক্টোবর, ২০২০।
