যাত্রী ছাউনি ও পাবলিক টয়লেট দখলে নিয়ে আবাসিক হোটেল ব্যবসা
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরে অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে বহু অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা আর পৌরসভার পাবলিক টয়লেট ও যাত্রী ছাউনি দখলদার
মাসুদ বেপারী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক চাপ কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি না থাকায় সে প্রতিনিয়ত বেপরোয়া হয়ে উঠছে। শতবর্ষী চাঁদপুর পৌরসভাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ইতোমধ্যে সে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দখলকৃত পাবলিক টয়লেটকে করেছেন দ্বিতল ভবন।
অবৈধভাবে গড়ে তোলা এই দ্বিতল ভবনকেই কাজে লাগিয়ে সে এখন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে প্রকাশ্য দিবালোকে। ভবনটিতে সে আবাসিক হোটেল ‘গার্ডেন’ পরিচালনার নামের মিনি পতিতালয় পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। শহরের মডেল থানা লাগোয়া ১০নং চৌধুরী ঘাটেই এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে অর্থ-বিত্তের মালিক বনে গেছেন এই বিপথগামী মাসুদ বেপারী।
স্থানীয় চৌধুরী ঘাট ব্যবসায়ীরা বলছে, সক্রিয় বিএনপি কর্মী মাসুদ বেপারী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে বর্তমানে সরকার দলীয় সমর্থক বনে গেছেন। আর এমন সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে এখন সে সব ধরনের অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন হর-হামেশাই। এমনকি খোদ চাঁদপুর পৌরসভাও তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এছাড়া অভিযোগ আছে মডেল থানা নিয়মিত নজরানা পাচ্ছে এই মাসুদের কাছ থেকে।
চৌধুরী ঘাট ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করছেন, যখন থেকে মাসুদ তার আবাসিক হোটেল ‘গার্ডেন’ পরিচালনা শুরু করতে থাকলেন ঠিক তখন থেকেই এ এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হতে থাকে। প্রতিদিনই শহর কিংবা আশপাশ এলকা থেকে দেহ ব্যবসায়ীরা নিয়মিত খদ্দেরের জন্য এলাকাটিতে ভিড় করতে থাকে।
এছাড়া স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ঘণ্টাভিত্তিক হোটেল ভাড়া দিয়ে বিপদগামী করে তুলছে মাসুদ। এমনকি প্রবাসী পরিবারের সুন্দরী স্ত্রীদের কমিশনভিত্তিক সে খদ্দের মিলিয়ে দিচ্ছে ‘গার্ডেন’ হোটেলটি। যার কারণে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে হোটেলটি।
তবে মাসুদের হোটেলটিতে মাঝে-মাঝে মডেল থানা পুলিশ নামেমাত্র অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য কপোত-কপোতীদের আটক করতে দেখা গেলেও তা মূলত লোক দেখানো বলে ঐ হোটেলের কর্মচারীরা দাবি করেছে। তাদের মতে নিয়মিত মাশোয়ারা দিতে দেরি হলেই মাঝে-মাঝে পুলিশ ঝামেলা করতে আসে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করেই এই মাসুদ দখলদার হয়ে উঠেনি। সে সাবেক পৌর কর্মচারী, বাজার পরিদর্শককে ম্যানেজ করেই দখলে নেন এই অভিযুক্ত যাত্রী ছাউনি আর পাবলিক টয়লেটটি। তৎকালীন বাজার পরিদর্শকের নির্ধারিত কমিশন নিশ্চিত হওয়ার পরই ঐ স্থাপনাটি দ্বিতল করেন এই মাসুদ।
তবে মাসুদ নিজেকে আড়াল করার জন্য একজন ফল ব্যবসায়ী হিসেবে ইতোমধ্যে সর্বমহলে পরিচয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এই ফলের ব্যবসার সুবাধে সে পৌরসভার কর্মকর্তা, সরকারি দলের রাজনৈতিক নেতা আর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাসায় প্রায় সময়ই মৌসুমী ফলের ঝুড়ি পাঠান বলে চাউর রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করছে, মাসুদ বেপারী কর্তৃক দখলকৃত যাত্রী ছাউনি আর পাবলিক টয়লেটটি যেন বর্তমান পৌর মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল উদ্ধার করেন। এছাড়া কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আবাসস্থল ‘গার্ডেন’ নামীয় মিনি পতিতালয়টি যেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যবস্থা নেন। সেই সাথে আগের মতো ব্যবসায়ীদের জন্য পাবলিক টয়লেট স্থাপনসহ দখলদার মাসুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করারও দাবি করেন ঐ এলাকার ব্যবসায়ীরা।
০৩ মার্চ, ২০২১।
