তদন্ত কমিটি গঠন : ফরিদগঞ্জে সরকারি চাল মুদি দোকানে

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জে গরিবদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বস্তা ভর্তি চাল মুদি দোকানে বিক্রির ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এই চাল দশ টাকা দরে বিক্রির জন্য নেয়া চাল বলে জানালেও উপজেলা খাদ্য অফিস জানায়, এটি বস্তা স্টিকারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির লেখা থাকলেও প্রকৃতভাবে এই চাল কাবিখার। ওই দোকানীর নামে ডিও রয়েছে। এদিকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি না অন্য কোন কর্মসূচির চাল, এ নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
জানা গেছে, উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের চান্দ্রা বাজারের মুদি দোকানী আ. ছাত্তারের দোকানে ৩০ কেজির খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি লেখা চালের বস্তা থেকে চাল বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ জনপ্রতিনিধি ও ডিলার যোগসাজসে এই ঘটনা ঘটছে। দরিদ্র লোকজনের কাছে চাল বিক্রি না করে বাজারের মুদি দোকানে প্রকাশ্যে এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে। তা অপরাধ। ৩ শ’ টাকার বস্তা চাল বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭ শ’ টাকা দরে।
গতকাল শনিবার সকালে চান্দ্রা পূর্ব বাজারে ছাত্তারের মুদি দোকানে গিয়ে ৩০ কেজি ওজনের খাদ্য অধিদপ্তরের সীলমোহরকৃত বিপুলসংখ্যক সরকারি চালে বস্তা পাওয়া যায়। কিভাবে তার দোকানে এসব চাল এসেছে জানতে চাইলে দোকান মালিক আ. ছাত্তার সঠিক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। তিনি একবার বলেন, এসব চাল চেয়ারম্যান আমাকে বিক্রি করতে দিয়েছেন। আবার বলেন, আমি এসব চাল খাদ্য গুদাম থেকে এনেছি।
এ ব্যাপারে বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সফিকুর রহমান পাটওয়ারী বলেন, এসব চাল ১০ টাকা কেজি দরের নয়, এগুলো কাবিখার বরাদ্দের চাল। যদি সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল হয়ে থাকে, তাহলে আমি বলতে পারব না কিভাবে ওই দোকানে বিক্রি হচ্ছে।
বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার বাহাউদ্দিনকে বারংবার এই বিষয়ে জানার জন্য মুঠো ফোনে কল করলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুমন কুমার সাহা বলেন, আ. ছাত্তারের নামে কাবিখা কর্মসূচির দু’টি ডিও রয়েছে। এসময় তিনি বলেন, খাদ্য গুদামে বস্তা সংকটের কারণে আমরা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বস্তাতেই কাবিখার চাল দেই।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, এটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নয়। তবে যেই কর্মসূচির হোক না কেন মুদি দোকানে কিভাবে প্রকাশ্যে সরকারের সিল মোহরকৃত বস্তা থেকে চাল বিক্রি হচ্ছে, সেই বিষয়ে তিনি বুঝতে পারছেন না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরিন জানান, সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিদের্শ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বস্তাভর্তি চাল পেয়েছেন। সাথে সাথে ওই দোকানদার ওই চালের বিপরীতে ডিও লেটার দেখান।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। শনিবার সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা ফরিদগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।