নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সক্ষমতা বেড়েছে, প্রয়োজন সচেনতনা
………কমোডর গোলাম সাদেক

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেছেন, দুর্ঘটনায় কবলিত নৌযান উদ্ধারের জন্য বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র ২টি ২৫০টন উদ্ধার ক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ রয়েছে। ২ হাজার টন ক্ষমতা সম্পন্ন আরো দু’টি তৈরী করা হবে। এর মধ্যে একটি চাঁদপুর নৌ সীমানা এলাকায় রাখা হবে। কারণ চাঁদপুর নৌ-সীমানা একটি বিপজ্জনক স্থান এবং এখানে নদী উত্তাল থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাদের সক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যাত্রীবাহী লঞ্চের যাত্রীদের সচেতন করে তুলতে হবে। নৌ-দুর্ঘটনায় কাজ করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার স্টেশন এণ্ড সিভিল ডিফেন্স ও নৌ-পুলিশের মধ্যে একটি চমৎকার সমন্বয় তৈরী হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ১১টায় চাঁদপুর মেঘনা নদীর বন্দর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’-এ উদ্ধার কাজ দক্ষতা ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে ডুবুরী/উদ্ধারকারীদের ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক মহড়া-২০২০ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, নৌ-দুর্ঘটনার খবর খুব দ্রুত দেয়ার জন্য আমরা একটি কল সেন্টার চালু করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এটি চালু হলে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তথ্য পাবেন। ১৬১১৩ নম্বরে তখন খুব সহজেই তথ্য নেয়া সম্ভব হবে। দুর্ঘটনার পরে লঞ্চ মালিক পক্ষও সঠিক তথ্য দিতে হবে। আমরা সবাই আন্তরিক হয়ে কাজ করলে অবশ্যই প্রত্যেকটি কাজে সফল হবো।
গোলাম সাদেক বলেন, উদ্ধার কাজটি শুধুমাত্র ডুবুরিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই কাজের সাথে অনেকেই জড়িত রয়েছেন। ডুবুরিদের এই মহড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। অন্যান্য সংস্থাগুলোর আয়োজনে বছরব্যাপী ডুবুরিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমি আশা করবো সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলো কাজ করতে গিয়ে যেন সবার মধ্যে একটি অলিখিত সু-সম্পর্ক তৈরী হয়।
তিনি বলেন, নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের দক্ষ মাস্টার প্রয়োজন। আমাদের প্রশিক্ষণ সেন্টার রয়েছে। প্রয়োজনে সব লঞ্চ মাস্টারদের ধরে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো।
বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-পরিচালক (উদ্ধার) মো. ফজলুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন নৌ বাহিনীর ক্যাপ্টেন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা দু’ভাবে তৈরী হয়। একটি হচ্ছে প্রাকৃতিক এবং আরেকটি হচ্ছে কৃত্রিম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-তুফান কিংবা নদী উত্তাল হওয়া। আর কৃত্রিম হচ্ছে- অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, লঞ্চ কিংবা নৌ-যানে অতিরিক্ত মাল বহন করা। এসব কারণে মূলত দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হই। এসব দুর্ঘটনার জন্য আমাদের প্রশিক্ষিত হয়ে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের লঞ্চ মালিক, ট্রলার মালিক ও বলগেট মালিকদের নিয়মনীতি সম্পর্কে জানতে হবে। আর এই কাজটি চলমান রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জামাল হোসেন, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন কমান্ডার লে. শহীদুল, চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস এণ্ড সিভিল ডিফেন্স সহকারী পরিচালক মো. ফরিদ, চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি মো. আবু তাহের খান।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বিপ্লব সরকার ও ফোকাস মোহনা.কম এর সম্পাদক ও প্রকাশক মুহাম্মদ মাসুদ আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মো. আব্দুস সালাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সওজ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মাহমুদুল হাসান থান্ডার্ড, আরিচার যুগ্ম পরিচালক এসএম সানোয়ার, চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন, নৌ সওজ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লা আল বাক্কী, কোস্টগার্ডের সাব লে. রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।
তিনদিনব্যাপী এই মহড়ায় বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, ফায়ার স্টেশন এণ্ড সিভিল ডিফেন্স ও নৌ-পুলিশের ৭০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের এই মহড়ায় ডুবুরী/উদ্ধার কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী/ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উদ্ধার যন্ত্রপাতির পরিচিতি ও ব্যবহার করে উদ্ধার প্রামাণ্য মহড়া করা হবে। ২০১৬ সাল থেকে এ ধরণের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
