
মনিরুল ইসলাম মনির
সোনালি হলুদ রঙের আমের মুকুলের মনকাড়া ঘ্রাণ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। মৌমাছির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে গুনগুন শব্দে। ছোট পাখিরাও মুকুলে বসেছে মনের আনন্দে। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নে পূর্ব নাউরী গ্রামের একটি আম গাছে। দৃশ্যটি যে কাউকেই কাছে টানবে। দূরন্ত শৈশবে কাঁচা-পাকা আম পাড়ার আনন্দ অনেকেরই স্মৃতিতে চির অমর। উপজেলার অনেক স্থানে এবার আগাম আমের মুকুল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা য়ায়, উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব নাউরী গ্রামের মানিক ঢালীর আঙিনার কয়েকটি আম গাছে মুকুল এসেছে। এছাড়াও পাঁচানী, ঠাকুরচর, কলাকান্দা, নাউরী, আমিনপুর, সর্দারকান্দি, সুজাতপুর এলাকার অনেক বাড়ির আঙিনায়, পুকুর ধারে আম গাছে মুকুল ধরেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে জানা যায়, মুকুলের যথাযথ পরিচর্যা না করলে মুকুল ঝরে গিয়ে আমের ফলন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। আম গাছে ফুল আসার ১৫ দিন আগে পর্যাপ্ত সেচ দিতে হবে। টিএসপি ও এমপি সার দিতে হবে ২-৩ বছর বয়সের গাছে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম, ৪-৫ বছর বয়সের গাছে ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম, ৬-৭ বছর বয়সের গাছে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম, ৮-৯ বছর বয়সের গাছে ৫০০ থেকে ৮০০ গ্রাম এবং ১০ বছরের ঊর্ধ্বে ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম প্রতি গাছে। ফুল ফোটার সময় মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকলে পুস্পমঞ্জরিতে পাউডারি মিলডিউ ও অ্যানত্রাকনোজ রোগের আক্রমণ হতে পারে। এতে গাছের পাতা, কচি ডগা, মুকুল ও কচি আমে কালো দাগ পড়ে। প্রাকৃতিক পরাগায়ণের জন্য আম বাগানে মৌমাছি পালন, বাগানের চারদিকে ফুলের গাছ রোপণ এবং বাগানে বিভিন্ন জাতের আমগাছ লাগানো প্রয়োজন। আম গাছে মুকুল আসার সময় হপার পোকা কচি অংশের রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। এছাড়া রস চোষার সময় পোকা আঠালো পদার্থ নিঃসৃত করে। এতে ফুলে পরাগরেণু আটকে পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটে। যেমন- আমের মুকুল গুটি বাঁধার ২ সপ্তাহ পর ২০ পিপিএম মাত্রায় ২৪-ডি স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আমের গুটি মসুর দানার মত বড় হলে ১০ লিটার পানিতে ২ থেকে ৩ মিলিলিটার পানোফিক্স স্প্রে করলে ফল ঝরা বন্ধ হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমের মুকুল আসার পূর্বে গাছে পানি ছিটিয়ে পাতাগুলো ধুয়ে দিতে হয়। আমের মুকুল যখন গুটি দানার মতো হয় তখন ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হয়। আমের ফলন বেশি বেশি পেতে হলে যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
