মতলব উত্তর ব্যুরো
মতলব উত্তর উপজেলার আইঠাদী মাথাভাঙ্গা গ্রামে চাচীকে ব্যাপক মারধর করেছে তারই আপন দেবর ছেলে। তিনি মাথাভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মৃত কামরুজ্জামানের স্ত্রী। এ ঘটনায় আহত শিরিন মমতাজ (৪০) বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে প্রধান আসামি গোলাম হোসেন প্রধানের ছেলে হারুন রশিদ ওরফে হিরন। এছাড়াও হিরনের পিতা গোলাম হোসেন মেম্বার, তার মা আরেফা বেগম, হিরনের স্ত্রী রোকসানা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি হিরনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করলেও সে জামিনে আসে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ নভেম্বর দুপুরে তাদের যৌথ পুকুর পাড়ে শিরিন মমতাজের সাথে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে হিরন তাকে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক মারধর করে। তার হাত পা ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মারাত্মক জখম করে। এক পর্যায়ে শিরিনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে পানিতেও চুবায়। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শিরিন মমতাজ বলেন, আমার স্বামী বেঁচে থাকতেও তারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে। তিনি মারা যাওয়ার পর তাদের অত্যাচার আরো হিংস্র হয়ে ওঠে। তাদের একটাই আক্রোশ, আমাদের জায়গা জমির ভাগ দিবে না। হিস্যা অনুযায়ী আমার স্বামীর অংশ তারা দিতে নারাজ। এ নিয়ে কথা বললেই আমার ও আমার ছেলে সন্তানের উপর হামলা চালায়। প্রতিবাদ করলে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দেয়। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কোন উপায়ন্তর না পেয়ে থানা মামলা দায়ের করি। আমার উপর হিরন তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় অমানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমার গলা থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যে একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে গেছে সে।
এদিকে এলাকাবাসী জানায়, হিরন আগে থেকেই দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রকৃতির লোক। সে এর আগেও একাধিকবার ক্ষমতা দেখিয়ে এ ধরনের কর্মকান্ড করেছে। তাকে কেউ কিছু বললে উল্টো ধমক দেয়। তাই তাকে এলাকার কেউ কিছু বলে না।
মামলার প্রধান আসামি হারুন রশিদ ওরফে হিরন বলেন, আমি আমার চাচীকে কোন মারধর করিনি। তার সাথে শুধু কথা কাটা-কাটি হয়েছে। তিনি আমার নামে মিথ্যা বলছেন।
ওসি মো. নাসির উদ্দিন মৃধা জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা ১নং আসামিকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আইগত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
- Home
- চাঁদপুর
- মতলব উত্তর
- মতলব উত্তরে চাচীকে মারধরে ভাতিজা আটক
