মেঘনায় বালু উত্তোলনে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তর উপজেলায় প্রবাহিত মেঘনা নদীতে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে চলছে বালু উত্তোলন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মেঘনা নদীবেষ্টিত বাহাদুরপুর গ্রামসহ অনেক গ্রাম পড়েছে হুমকির মুখে।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল এমরান খান বালু উত্তোলনের সংবাদে মেঘনা নদীতে অভিযান চালান। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে দুই ড্রেজার মালিককে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এসময় মোহনপুর নৌ-পুলিশ স্টেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযানের সময় অন্যরা পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
মেঘনা নদীর মোহনপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার পাশে বালু মহাল দিয়ে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে এলাকায় সিন্ডিকেট তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
মোহনপুর ইউপি সদস্য আলমগীর কবিরাজ বলেন, অনেকেই মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন। প্রভাবশালী এক ব্যাক্তির ছত্রছায়ায় এ বালু উত্তোলন হয়ে আসছে। বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে বাহাদুরপুর গ্রামটি বিলীন হয়ে যাবে।
ওই প্রভাবশালী নেতার নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে তিনি জানান, বাহাদুরপুর গ্রাম ঘেসে দীর্ঘদিন বালু উত্তোলন করায় গ্রামবাসী একাধিকবার প্রতিবাদ করে। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারো বালু উত্তোলন শুরু করে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল এমরান খান বলেন, মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার মোহনপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলন করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(গ) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে একই আইনের ১৫(১) ধারায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।