মনিরুল ইসলাম মনির
দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সেচ প্রকল্প মতলবের মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধের কাচারীকান্দি এলাকায় হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ও প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এনেছে স্থানীয় প্রশাসন। যদিও এখনও ভাঙন ও পানিতে ফসলহানির শঙ্কায় আতঙ্ক কাজ করছে লাখো কৃষক-জনতার মাঝে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের জনতা বাজার সংলগ্ন কাচারীকান্দি এলাকা দিয়ে মেঘনা নদী লাগোয়া মূল বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে নদীর তীরবর্তী অংশের ২০০ মিটার অঞ্চল ভেঙে নদীতে বিলীন হতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের ৮০ মিটার এলাকা ভেঙে যায়। চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই শতাধিক যুবক নিজ উদ্যোগে ৮-১০টি ট্রলিতে করে জনতা বাজার, চরমাছুয়া এলাকা থেকে কয়েক হাজার বালুভর্তি জিওব্যাগ এনে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমে পড়েন। স্থানীয় আমিরাবাদ বাজারে বাঁশের বাজার থাকায় সেখান থেকে বাঁশ এনে পাইলিংয়ের ব্যবস্থা করতে থাকেন তারা। যুবকরা রাত ৩টা পর্যন্ত প্রাণপণে চেষ্টা করে বাঁধ রক্ষা করেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই এলাকায় ১৭ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে ধান, পাট, আখ, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল রয়েছে। এছাড়া সেখানে কৃষকসহ প্রায় ৪ লাখ লোকের বসবাস। তাই বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেতরে পানি প্রবেশ করলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে ওই এলাকার মানুষ।
সংসদ সদস্য অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল বলেন, ‘এখানে প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার একটা ডিপিপি হওয়ার কথা। অতি দ্রুত এই বেড়িবাঁধ সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজটি দ্রুতগতিতে না করলে যেকোনও সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে যেতে পারে। এর আগেও দু’বার ভাঙছে। আর সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।
৫ অক্টোবর, ২০২০।
- Home
- চাঁদপুর
- মতলব উত্তর
- মেঘনা-ধনাগোদা বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে নুরুল আমিন রুহুল এমপি
