
নোমান হোসেন আখন্দ
শাহরাস্তি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক সরকারি হালটভুক্ত খাল রয়েছে। এতে উপজেলার ৪০টি প্রধান খালের উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে এক শ্রেণির ভূমিদস্যু। বিভিন্ন বাজার ও বাড়ির উপর দিয়ে যাওয়া ২০টি ছোট খাল ভরাট করে দখলে নিয়ে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া সড়ক ও জনপদের সড়কের পার্শ¦বর্তী খালগুলোর উপর পাকা ইমারত ও অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে দখলে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। তবে বেশকিছু দোকানপাট থেকে জেলা পরিষদ বার্ষিক সরকারি ফি আদায় করছে। এসব খাল দখলে নিয়ে ইমারত নির্মাণের ফলে বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
ইরি বোরো মৌসুমে পানির অভাবে এসব খালগুলো মাঠের মতো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, ফলে ফসল উৎপাদন করাও সম্ভব হয় না। সরকারি খালগুলোর উপর আধা-পাকা, সেমি-দালান, দোতলা থেকে পাঁচতলা ইমারত স্থাপন করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব খালগুলো পানিতে টইটম্বুর হয়ে থাকলেও খালের উপর ইমারত থাকায় পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া উপজেলার বেশ কিছু খাল ময়লা-আর্বজনা ও পলি জমে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
শাহরাস্তি উপজেলার ইমারত নির্মাণ করে দখল হয়ে যাওয়ার পথে উল্লেখযোগ্য খালগুলো হচ্ছে- ঠাকুর বাজারের উপর দিয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক মেহার গোদা খাল, মেহারকালী বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত খাল, শাহরাস্তি পৌরসভার সামনে অবস্থিত কালীবাড়ী হয়ে ডাকাতিয়া নদী সংযুক্ত খাল, ঠাকুর বাজারের উত্তর অংশে অবস্থিত শ্রীপুর কাজিরকাপ গ্রাম সংযুক্ত খাল, কালিয়াপাড়া বাজারের উপর দিয়ে অবস্থিত মেহার উত্তর ইউনিয়ন সংযুক্ত খাল, মেহার কালীবাড়ী হয়ে সুচীপাড়া বাজার পর্যন্ত ডাকাতিয়া নদীর পাড় ঘেষা সংযুক্ত খাল, সুচীপাড়া হয়ে আয়নাতলী ও উঘারিয়া মোল্লাদজ্জা বাজার পর্যন্ত দু’পাশের সংযুক্ত খাল, উঘারিয়া থেকে চিতোষী বাজার রাস্তার দু’পাশের খাল, উঘারিয়া থেকে নরিংপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, নরিংপুর থেকে সাংহাই পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, শোরশাক থেকে রাগৈ পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, রাগৈ থেকে লোটরা পানিয়ালা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, খিলা বাইপাস সড়ক, দু’পাশে অবস্থিত আহম্মদ নগর ভেরকী ও গ্রাম খিলা পর্যন্ত সংযুক্ত খাল, চিতোষী বাজার থেকে বেরনাইয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, গ্রামখিলা এলাকায় সংযুক্ত খাল ও সড়কের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ, কাজির কামতা থেকে সাহেব বাজার হয়ে টামটা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, দোপল্লা বাজার থেকে উয়ারুক এলাকার সড়ক জনপদ বিভাগের সড়ক পর্যন্ত দু’পাশের খাল, সেনগাঁও থেকে বলশিদ সড়কের রাস্তার দু’পাশের খাল, উয়ারুক থেকে ইছাপুরা মুড়াগাঁও পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কাকৈরতলা থেকে কালিয়াপাড়া, কালিয়াপাড়া থেকে দোয়াভাঙ্গা, উয়ারুক থেকে উয়ারুক স্টেশন পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের খাল ভরাট করে দোকান-পাট নির্মাণ ও বহুতল বাড়ি ও মার্কেট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বেরনাইয়া, চিতোষী, কালিয়াপাড়া, দোয়াভাঙ্গা, উঘারিয়া, আয়নাতলীসহ বেশ কয়েকটি বাজারের দু’পাশের খালের উপর দোকান-পাট নির্মাণ করায় জেলা পরিষদ তাদের কাছ থেকে বার্ষিক খাজনা আদায় করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা মীরা জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি স্থানে খালের উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা সরানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভবন ও বহুতল ভবন সরানোর ক্ষেত্রে উচ্ছেদ মামলা পরিচালনা করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হয়। আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ পরিচালনা করা হবে।
০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।
