সবাই মিলে দেশটা শান্তির সোনার বাংলা গড়ে তুলবো : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

চাঁদপুরে জাতির জনকের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও শিশু দিবসে

এস এম সোহেল
‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন’ এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চাঁদপুরে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করা হয়েছে। গত রোববার দিবসের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে ছিলো অঙ্গীকারের পাদদেশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য র‌্যাীল, বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানমালায় সকাল সাড়ে ৯টায় সর্বস্তরের মানুষ অঙ্গীকারের পাদদেশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শিশু-কিশোরদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির নেতৃত্ব বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়েছে। র‌্যালিতে চাঁদপুরের স্কাউটের বাদক দল ও শহরের সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
সকাল পৌনে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। জাতির পিতার সেই ৭ মার্চের ভাষণ আজ সারাবিশে^ অন্যতম। তিনি এই ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালিদের যুদ্ধে যেতে উজ্জীবিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে মুজিব বর্ষ পালন করা হবে। এই বর্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা, দেশের উন্নয়নসহ সব কিছু ফুটে উঠবে। সবাই মিলে এ দেশটা শান্তির সোনার বাংলা গড়ে তুলবো।
তিনি আরো বলেন, বাঙালি জাতির জন্য মার্চ মাস একটি গৌরবোজ্জ্বল মাস। এ মাসেই জাতির জনকের জন্ম হয়েছে। এ মাসেই ডাক দেয়া হয়েছে স্বাধীনতার। আবার এ মাসেই আমাদের স্বাধীনতা দিবস। তাই এ মার্চ মাস খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাস। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধু এমন একজন আদশের মানুষ ছিলেন যিনি জীবনে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি ছিলেন স্পষ্টবাদী ও স্বাধীনচেতা। আজকের তার জন্মদিনে আমরা মহান এই নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। বাঙালি জাতির হাজার বছরের পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করেনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর মধ্যে অনেকেই জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পারেনি। তিনি শিশুদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ করতেন। শিশুদের পছন্দ করতেন বলেই দেশ স্বাধীনের পর শিশু শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। তিনি শিশুর অধিকারের বিষয়ে ভীষন সচেতন ছিলেন। দেশের শিশু সংগঠনগুলোর প্রতি তার ছিল ভীষণ দুর্বলতা। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করেছেন শিশু শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে। বিদ্যালয়ে সাথে সাথে শিক্ষকদের চাকরিও জাতীয়করণ করেছিলেন। স্বাধীনতার পর যাতে দেশ এগিয়ে যেতে না পারে সেজন্যই ‘৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যা করা হয় স্বপরিবারে।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে দিবসটির সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. মঈনুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জামাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, পৌরসভার সচিব আবুল কালাম ভূঁইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রশীদ সর্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মো. মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সভাশেষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন অতিথিরা।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের কর্মসূচির মধ্যে ছিলো- বাদ জোহর ও সুবিধাজনক সময়ে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাত। জেলার সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শের উপর আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে।