হাজীগঞ্জে দু’ভাইয়ের ভয়ে অতিষ্ট প্রতিবেশীরা!


নিজস্ব সংবাদদাতা :
মো. শরীফ হোসেন (৩০) ও তার বড় ভাই সিদ্দিকুর রহমান (৪০) কথায় কথায় দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীর উপর হামলা ও হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন। তাদের ভয়ে গ্রামের কেউ মুখ খোলে না। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হলেও ভয়ে স্বাক্ষ্য দিচ্ছেন না সাক্ষীরা। গ্রামের মানুষের মুখে মুখে একটাই বুলি (তাও প্রকাশ্যে নয়, গোপনে) তাদের খুঁটির জোর কোথায়? সংবাদকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভুক্তভোগী।
মো. শরীফ হোসেন শরীফ ও সিদ্দিকুর রহমান হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ওড়পুর গ্রামের মিয়া গাজী হাজি বাড়ির আবু তাহেরের ছেলে। তাদের ভয়ে সব-সময় আতঙ্কে থাকে। কি নারী, কি পুরুষ, নাবালক থেকে বয়োবৃদ্ধ, কেউ তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিতে বা কথা বলতে নারাজ। ওই ভুক্তভোগি শরীফ ও তার ভাই সিদ্দিকের কিছু ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে দিয়েছেন। তা হলো….
ঘটনা-১ : গত ৫ নভেম্বর মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির আ. হাকিম মাস্টারসহ তার ছেলে মোজাম্মেল, ইলিয়াছ ও প্রতিবন্ধী মেয়ে রাবেয়াকে মারধর করে শরিফ ও তার পরিবারের লোকজন। হাকিম মাস্টার সু-বিচার পাওয়ার জন্য বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এতে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৭ নভেম্বর শরিফের বাবা আবু তাহের (৬৫), মা জয়নবিন নেছা (৫৫), ভাই ছিদ্দিকুর রহমান (৪০) ও ভাগিনা মো. মাসুদ হোসেন (১৯) কে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে আবারো হাকিম মাস্টারের ছেলে ইলিয়াছের উপর অর্তকিত হামলা করে। হামলায় ইলিয়াছ মাথায় কোপ লেগে গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা (নং-১৩০/২০১৭ইং) করা হয়েছে।
ঘটনা-২ : গত ১৩ জুন সম্পত্তিগত বিরোধে নিয়ে আবু তাহের তপাদারের ছেলে মো. আবু তালেব (৪৫), পুত্রবধূ কোহিনুর বেগম (৩৮) ও নাতি মো. রিপন হোসেন (১৫) এর সাথে শরীফের তর্ক-বির্তক হয়। এক পর্যায়ে শরীফ ও তার ভাগিনা মাসুদ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় রিপনের মাথায় কোপ, আবু তালেবের হাত কোপ লেগে গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা (নং-৭১/২০১৭ইং) করা হয়েছে।
ঘটনা-৩ : গত ২৯ জুন হাজি বাড়ীর মজিবুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন বেগম (২৬) হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন শরীফের বিরুদ্ধে। শরীফ সম্পত্তিগত বিরোধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেসমিনের বসতঘরে রাতে ঢুকে তাকে হত্যার হুমকি দেন। বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করে শরীফ এবং তার বাবা আবু তাহের ও বড় ভাই সিদ্দিকসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে জেসমিন বেগমকে কোন ধরনের হয়রানি করবে না মর্মে ৩’শ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে আপোষণামা করে বিষয়টির মিমাংসা করা হয়।
ঘটনা-৪ : একই গ্রামের নতুন বাড়ি (টুঙ্গি বাড়ি) বর্তমানে প্যারাপুর গ্রামের মিলনকে বিদেশ নেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করে সিদ্দিক। এ ঘটনায় মিলনকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। উল্টো মিলনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে সিদ্দিক। পরে মিলনও মামলা করেন। যা আপোষ মিমাংসা হয়েছে।
ঘটনা-৫ : ২০০৯ সালে (আনুমানিক) একই গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জাহাঙ্গীর আলমকে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী মাকছুদা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামিদের একজন সিদ্দিক। যা এখনো চলমান রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন জানান, আমি একটি ঘটনার মিমাংসা করে দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে শুনেছি।
উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে শরীফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি ( ০১৮৭৫—-৯৬) বন্ধ পাওয়া যায়। শরীফের ভাই সিদ্দিকের সাথেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি (০১৬২০—-৬৩) বন্ধ পাওয়া যায়।