হ্যালিপ্যাড নেই ব্র্যান্ডিং জেলা চাঁদপুরে


আবদুল গনি :
দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা চাঁদপুর। বহু প্রাচীনকাল থেকে নদীবন্দর আর ইলিশের জন্যে বিখ্যাত এ শহরে নেই একটি হ্যালিপ্যাড। সরকারি প্রশাসন, কোম্পানি কিংবা কেউ ব্যক্তিগতভাবে চাঁদপুরে হেলিকপ্টার যোগে অবতরণ করতে হলে হ্যালিপ্যাড ছাড়া ঝুঁকি নিয়ে অবতরণ করতে হচ্ছে।
নানা ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ চাঁদপুর। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, খেলাধুলা, যাতায়াতে সড়ক, নৌ, রেলপথে ভ্রমণ ও পরিবহন প্রভৃতিতে চাঁদপুর দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে অনেক উন্নত ও সুখ্যাতিসম্পন্ন। চাঁদপুরে দেশবরেণ্য ও কৃতীমান ব্যক্তিও রয়েছে।
যারা চাঁদপুরের অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান করে গেছেন। সবকিছুর বিচারে চাঁদপুরে এখন প্রয়োজন একটি হ্যালিপ্যাড। বন্যা, দুর্যোগ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এর গুরুত্ব অপরিসীম। জরুরি ও সময়ের প্রয়োজনে হ্যালিপ্যাড স্থাপন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসা, বাণিজ্য, রাষ্ট্রীয় কাজে ও রাজনীতি প্রভৃতিতে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চাঁদপুরে আসেন। প্রকল্প পর্যবেক্ষণেও অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে চাঁদপুরে আসতে হচ্ছে।
তাদের কেউ কেউ হেলিকপ্টারে আসলেও চাঁদপুর স্টেডিয়াম কিংবা আউটার স্টেডিয়ামে অবতরণ করতে হচ্ছে। এতে নানা ঝুঁকি রয়েছে। পাশে রয়েছে একটি বড় আকৃতির টাওয়ার, তার কিছু দূরেই বিদুৎ কেন্দ্র ও পাশে হাই ভোল্টেজের তার।
শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে চাঁদপুর এগিয়ে চলছে। ইলিশের সু-খাতিতে ব্র্যাডিং খ্যাতিও অর্জন করেছে। মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, মেরিন একাডেমি, নার্স প্রশিক্ষণ ইন্সিটিটিউট, চাঁদপুর টেকনিক্যাল কলেজ, চাঁদপুর সরকারি ও মহিলা কলেজ, সরকারি-বেসকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, প্রাথমিক শিক্ষালয়, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল প্রভৃতি জনস্বার্থে দিন দিন অসামান্য অবদান রেখে চলছে। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প ও বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলো খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রেখে চলছে।
১ হাজার ৭শ’ বর্গ কিলোমিটারের আয়তনে ৮ টি উপজেলা ৭টি পৌরসভা, ৮৯ টি ইউনিয়ন ও ১ হাজার ৩শ’ ৬৫ টি গ্রাম রয়েছে চাঁদপুরে। কৃষি পণ্য, মাছ, পান-সুপারি, বিভিন্ন প্রকার পশু, শাক-সবজি প্রভৃতি উৎপাদনে চাঁদপুর দেশের অন্যসব জেলাগুলোর মধ্যে সেরা হলেও নেই বিমানবন্দর কিংবা হ্যালিপ্যাড।