চাঁদপুরে আ.লীগের শুদ্ধি অভিযান শুরু!

দলীয় পদ হারাচ্ছেন কচুয়া উপজেলা সভাপতি-সম্পাদক

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ অল্প সময়ের মধ্যে দলীয় অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। অভিযানে প্রাথমিকভাবে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সাংগঠনিক বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছে দলটি। সাথে সুযোগ সন্ধানীসহ ভিন্ন মতাবলম্বী অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিবে জেলা কমিটি। এমন পরিস্থিতিতে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগের প্রাথমিকভাবে সদস্যপদ স্থগিত কিংবা অব্যাহতির মতো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দিয়ে তৃণমূলে নতুন বার্তা দিতে যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগ।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল স্বাক্ষরিত এক কারণ দর্শানো পত্রে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগকে ৭ দিনের কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। যার অনুলিপি কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হানিফ এমপি ও সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম এমপির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের প্রায় এক ডজন অভিযোগের জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে অভিযুক্ত এই দুই নেতাকে।
দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে কচুয়া উপজেলার এই দু’জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার পর আর্থিক দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধান শেষে চাঁদপুরের দুর্নীতিবাজদের তালিকা চূড়ান্তের পর, যাচাই-বাছাই শেষ কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ দুর্নীতিবাজদের তালিকা জেলা আওয়ামী লীগের কাছে প্রেরণ করেছে। ধারাবাহিকভাবে শুদ্ধি অভিযানে জেলার বেশ কিছু নেতা আটক হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ আনা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সাচার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বিতারা ইউনিয়ন সভাপতি হারুনুর রশিদ পাটোয়ারী, গোহট দক্ষিণ ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া, আশ্রাফপুর ইউনিয়ন সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন মুন্সিকে অব্যাহতি প্রদান। সম্মেলন ছাড়া পৌর আওয়ামী লীগ অনুমোদন ও সাধারণ সম্পাদক পদে নৌকা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থীকে দায়িত্ব প্রদান। এছাড়া বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করানো। এমনকি উপজেলা সভাপতির নিজ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিজয়ী করানো।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিট কমিটিতে বিতর্কিত মাদকসেবী, সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের দলীয় পদ প্রদান করা। কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতের সমর্থক কাউচার মিয়াকে পদায়ন করা। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করাসহ অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতসহ মাদক বিক্রেতা, ভূমিদস্যুদের রাজনৈতিকভাবে দলীয় পদ-পদবি প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করা অভিযোগ আনা হয়েছে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে।
ফলে কেন দলীয় পদ হতে সভাপতি ও সম্পাদককে অব্যাহতি প্রদান করা হবে না তা ৭ দিনের মধ্যে চাঁদপুর জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে লিখিত জবাব প্রদান করা জন্য কারণ দর্শানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ জুন উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অভিযুক্ত সভাপতি আইয়ুব আলী পাটোয়ারী ও সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন চৌধুরী সোহাগ।