ফরিদগঞ্জে ফল গাছের সাথে মানুষরুপী পশুদের এ কেমন শত্রুতা!

আ. ছোবহান লিটন
ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষক শাহিন আলম খন্দকার। নার্সারিতে লাভের স্বপ্ন দেখলেও সে স্বপ্ন যেন অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দিলো মানুষরুপী পশুরা। কেটে সাবাড় করে দেয় তার নার্সারির প্রায় ২ হতে আড়াই লাখ টাকার ফল গাছের চারা। ব্যাংক থেকে লোন এবং ধার-দেনা করে একটু লাভের আশায় অন্যের প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে নার্সারি করেছিলেন এই কৃষক।
সরেজমিনে ও থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব বড়ালী গ্রামের খন্দকার বাড়ির কৃষক শাহিন আলম খন্দকার। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ নার্সারির ব্যবসা করে আসছেন। শাহিন আলমের নার্সারিতে উন্নত জাতের ফলজ, বনজ ও ঔষুধি গাছসহ প্রায় লক্ষাধিক চারা রয়েছে। প্রতিদিনের মতো তিনি সোমবার রাতে নার্সারি থেকে বাড়িতে চলে যান। পরদিন মঙ্গলবার (৮ জুন) বেলা ১২টায় সময় শাহিনের নিয়মিত কর্মচারী মো. বিল্লাল হোসেন নার্সারিতে এসে দেখেন উন্নত জাতের জাম্বুরা, চায়না কমলা, আম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাড়ে ৪শ’ গাছের চারা কেটে ও গাছে আগত ফল নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
কৃষক শাহিন আলম খন্দকার কেঁদে কেঁেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, চৈত্র-বৈশাখ মাসের গরমে আমি অনেক কষ্ট করে এ নার্র্র্সারির প্রজেকটি দাঁড় করিয়েছি, এখন মাত্র বৃষ্টি আরম্ভ হইছে আমি আর কয়েকদিনের মধ্যে ভালো লাভের স্বপ্ন দেখছি। আমার সাথে যে শত্রুতা আরম্ভ হইছে এহন আমি কি করমু? আমি লোন কেমনে পরিশোধ করমু? আমার পরিবার কি খাইবো? আমার সাথে কার এমন শত্রুতা? আমার স্বপ্ন নষ্ট করলো, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। এ সময় স্থানীয় কৃষকরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অপরাধীকে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির জোর দাবী জানান। একইসাথে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
শাহিন আলমের নার্সারি পরির্দশন শেষে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা নুরে আলম এ প্রতিবেককে বলেন, ‘কৃষি বাঁচলে, বাঁচবে দেশ। যদি কৃষকের না থাকে নিরাপত্তা তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরণের কৃষি প্রজেক্ট বন্ধ করে দিবেন কৃষকরা। এমন ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তাহীণতায় আর চাষাবাদ করতে সাহস করবে না। এ ঘটনার সুস্থ বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর প্যানেল মেয়র-১ আব্দুল মান্নান পরান বলেন, শাহীন সমাজে খুবই ভালো মানুষ তার সাতে কারো শুত্রুতা থাকার কথা নয়, যারাই একাজটি করেছে তারা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে, ধার-দেনা আর কৃষিঋণের বোঝা বইতে না পেরে কৃষকের আত্নহত্যার ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। তাই অপরাধীদের বের করে আইনের আওতায় এনে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জরুরি। আর এভাবে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে রাষ্ট্রের অর্থনীতি চাকায় আঘাত পড়বে বলে মনে করছেন তিনি।
এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন কৃষক শাহিন খন্দকার।
বিষয়টিকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন।

০৯ জুন, ২০২১।