মতলব উত্তরে দিশা আলোঘর শিক্ষা বৃত্তি প্রদানে ইউএনও- নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব

মনিরুল ইসলাম মনির :
ডেভোলাপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ ফর সোসাল এডভান্সমেন্ট (দিশা) এর উদ্যোগে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বার্ষিক আলোঘর বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর আলোঘর পাঠাগার অডিটোরিয়ামে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী ৩০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা বৃত্তি সনদ ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি দিশার মতো বিভিন্ন এনজিওগুলো এগিয়ে আসা উচিৎ। বাংলাদেশে অনেক দরিদ্র পরিবার আছে। ওইসব পরিবারে অনেক মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী রয়েছে। তাদের ঠিকমত পরিচর্যা করা গেলে শিক্ষার হার অনেক বেড়ে আসবে।
তিনি আরো বলেন, দিশা হচ্ছে একটি এনজিও অর্থাৎ নন-গভর্নমেন্ট অরগানাইজেশন হয়েও দিশা যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যান্ত ভাল একটি উদ্যোগ। কারণ স্কুল পর্যায়ে থেকে কোন কিছুর উপর সফলতা পেলে শিক্ষার্থীরা আরো উদ্যোগী হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার মানকে ধরে রাখা সম্ভব বলে আমি মনে করি। আইসিটি বিষয়টি বর্তমানে বিশে^র চাহিদা সম্পন্ন একটি বিষয়। এ বিষয়টির বাংলাদেশেও অনেক চাহিদা রয়েছে। কম্পিউটার শিক্ষা থাকলে জীবন অনেক সহজ হয়ে যায় এবং চাকরি ক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা রাখে। তাই সকলকে আইসিটি বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আইসিটি বিষয়ে ভালভাবে শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিশা আলোঘর পাঠাগার সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আনিছুর রহমান। দিশা আলোঘর ছেঙ্গারচর শাখার ম্যানেজার মো. মাহবুবুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃসি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম, ছেংগারচর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এসএম আবুল বাশার, ছেংগারচর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বেনজির আহমেদ মুন্সি, সিদ্দিকা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল হক পাটোয়ারী, জীবগাঁও জেনারেল হক উচ্চ বিদ্যালয় এ- কলেজের অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান, নীলনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলোঘর প্রোগ্রাম ম্যানেজার শামসুল আলম, প্রোগ্রাম সহকারী চম্পা খাতুন, রুবি আকতার, মো. আলা উদ্দিনসহ আলোঘরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ৩০ জন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে নগদ প্রতিজন ৩ হাজার ৬শ’ টাকা ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।