চাঁদপুরে স্বামীর যৌতুক মামলায় স্ত্রী জেলহাজতে

স্টাফ রিপোর্টার
দুই বছরের দাম্পত্যজীবনে সম্পূর্ণ মোহরানা পরিশোধের পরও মতলব উত্তর উপজেলার গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা নূর মোহাম্মদের করা ৩ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি মামলায় স্ত্রী মনি আক্তার মিতু (২১) কে জেলহাজতে প্রেরণ করার আদেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সমন জারির নির্ধারিত তারিখে মনি আক্তার স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কফিল উদ্দিন এই আদেশ দেন। একই সাথে অপর আসামি মনি আক্তারের ভাই মেহেদী হাছান (২৬) এর জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ জুন বাদী নুর মোহাম্মদের সাথে একই উপজেলার সুজাতপুর এলাকার দুলাল মিজির মেয়ে মনি আক্তার মিতুর সাথে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মোহরানা ধার্যপূর্বক বিবাহ সম্পন্ন হয়। ওই সময় ৫০ হাজার টাকা নগদ ওয়াশিয়াস্তে কাবিন নিবন্ধন হয়। পরবর্তীতে নুর মোহাম্মদ বাকি ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
বিবরণ থেকে আরো জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মিতু তার স্বামীকে বিভিন্ন বাহানায় নগদ অর্থ দাবি করে। এক পর্যায়ে তার বাবার ঘর করার জন্য স্বামীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আদায় করে নেন। এরপরে দাম্পত্য জীবনে শান্তি আসেনি। একের পর এক অর্থ দাবি, নুর মোহাম্মদকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন মিতু ও তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কয়েকবার সালিস বৈঠক হয়। কিন্তু কোন ধরনের সমাধান আসেনি। বরং মিতু ও তার পরিবারের লোকজন ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং টাকা না দিলে মিতু তার সংসার করবে না মর্মে ডিভোর্স চান।
এরপর কোন উপায় না পেয়ে নির্যাতনের শিকার মিতুর স্বামী নুর মোহাম্মদ গত ১৫ জুলাই চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিৎ রানা বলেন, বাদী পক্ষ দীর্ঘদিন নির্যতানের শিকার। করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতে এসে মামলা দিতে পারেননি। মামলাটি গত ১৫ জুলাই আদালত আমলে নিয়ে আসামি মনি আক্তার মিতু ও তার ভাই মেহেদী হাছানের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। একই মামলায় মিতুর বাবা দুলাল মিজিও আসামি ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়নি। আজ মিতু ও মেহেদী স্বেচ্ছায় আদালতে উপস্থিত হলে মেহেদীকে জামিন ও মিতুকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আবদুল আজিজ।
২৭ আগস্ট, ২০২১।