
মতলব উত্তর ব্যুরো :
কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জেএসসি পরীক্ষার্থীকে মারধর করে রক্তাক্ত দখম করেছে চাঁন মিয়া নামে এক বখাটে যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষার্থী মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের দপ্তরে হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দিঘলীপাড় গ্রামে ৩ ডিসেম্বর বিকেলে। জেএসসি পরীক্ষার্থী দিপালী আক্তার এ বছর নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তিনি দিঘলীপাড় গ্রামের দিনমজুর আবদুল করিম কাজলের মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দিঘলীপাড় গ্রামের আলী মিয়া প্রধানের ছেলে চাঁন মিয়া ওই ছাত্রীকে প্রতিদিনই বিরক্ত করতো। ছাত্রীর মা-বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনি তাকে কুপ্রস্তাব দিলে ছাত্রী তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আঘাতসহ মাথা ফাটিয়ে দেন। ৪ ডিসেম্বর সকালে আহত ছাত্রীকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে আহত ছাত্রীর মাথায় সেলাইসহ চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র প্রেরণ করে চিকিৎসকরা।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলী মিয়ার ছেলে চাঁন মিয়ার স্ত্রী দীর্ঘদিন মরিশাস থাকে। সে বখাটে প্রকৃতির লোক। প্রায়ই তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনা শোনা যায়। জেএসসি পরীক্ষার্থীকে একা পেয়ে তিনি কুপ্রস্তাব দিলে ছাত্রী তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। মারধরের শব্দ শোনে পথচারী ও পার্শ্ববর্তী বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে চাঁন মিয়া বীরদর্পে চলে যায়।
ছাত্রীর বাবা আবদুল করিম কাজল বলেন, আমি দিনমজুর, গরিব। কাজ করে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করি। চাঁন মিয়া আমার মেয়েকে বাড়িতে একা পেয়ে খারাপ কাজ করার কথা বললে তাতে রাজি না হওয়ায় আমার মেয়েকে মারধর করে এবং মারাত্মক জখম করে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত চাঁন মিয়াকে নোটিশ করে ডেকে আনাসহ সুষ্ঠু বিচারের আশ্বস্ত করেন।
