একাদশ জাতীয় নির্বাচন : চাঁদপুর-১ (কচুয়া)
ইল্শেপাড় রিপোর্ট :
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী সময় যত কাছে আসছে চাঁদপুর জেলায় ততোই ভোটের মাঠে প্রার্থীদের দৌঁড়-ঝাপ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তবে নির্বাচন কেন্দ্রিক শাসকদলীয় নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপ বহন করছে। শাসক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানা ধর্মীয় ও জাতীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজদের জানান দিয়ে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছে এবারের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা নতুন প্রার্থী পাবে।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯শ’ ৭৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ৭শ’ ৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২৫ হাজার ১শ’ ৯৮ জন।
এ আসনে সম্ভাব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্যে আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক প্রার্থী দৌঁড়-ঝাপ অব্যাহত রাখলেও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে গোলাম রহমান এগিয়ে রয়েছেন। আর বিএনপিতে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন নেতাকর্মীদের পছন্দ হলেও তিনি দেশে না থাকায় প্রার্থীতা শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হয় কিনা তা এখন নিশ্চিত নয় বলে জানান দলটির স্থানীয় নেতারা।
চাঁদপুর জেলার দলগতভাবে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও দেশের আলোচিত দুই শীর্ষ নেতার বৈরী সম্পর্ক আর উভয়ের সমর্থিত নেতা-কর্মীদের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠে কচুয়া। আওয়ামী লীগ-বিএনপির দলগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কচুয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা ছিলো না বললেই চলতো। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে।
এদিকে চাঁদপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য, সাবেক সচিব ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা আশাবাদী হলেও সরকারের শেষ সময়ে এসে তিনি পরেছেন বেকায়দায়। এই সংসদ সদস্যের পরিচালিত নতুন প্রজন্মের ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে তিনি এখন স্থানীয় ও জাতীয়ভাবেই সমালোচিত। এছাড়া বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পরেছেন ড. খান। যা তাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।
তবে এই আসনে আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব গোলাম হোসেন। তিনি নিজেকে প্রার্থী হিসেবে জানান দিলে এলাকায় কয়েকবার দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। ফলে হামলার তীর গিয়ে পরে বর্তমান সাংসদের কর্মী-সমর্থকদের দিকে। এমন পরিস্থিতিতে ক্লিন ইমিজের প্রার্থী হিসেবে গোলাম রহমান ইতোমধ্যে সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ প্রকাশ্যে তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়নের ব্যাপারে গোলাম রহমান জানান, রাজনীতি হচ্ছে সব মানুষের সেবা করার সর্বোচ্চ মাধ্যম। এলাকায় কাজ করতে গিয়ে বিভিন্নভাবে বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছি। তারপরও কাজ করে যাব। বিচার করবে জনগণ। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
অপরদিকে চাঁদপুর-১ আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন মামলা-হামলায় জর্জরিত হয়ে প্রায় দেড় বছর জেলে ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে তার নেতকর্মীরা জনায়। ১/১১ পর বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে মিলনের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের কচুয়া, সদর থানা, কুমিল্লার বিভিন্ন থানা ও ঢাকায় ৩৬টি মামলার আসামি তিনি। তবে তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবীও এসব মামলার বেশ কয়েকটিতে আসামি হিসেবে রয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত নেতা-কর্মীদের দাবি মিলন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শিকার।
কচুয়ার এ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন আনম এহসানুল হক মিলনের স্ত্রী, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম রফিকুল ইসলাম রনির স্ত্রী শামিমা আক্তার রনি, লন্ডন প্রবাসী বিএনপি নেতা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম মজুমদার, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আ হ ম মনিরুজ্জামান দেওয়ান মানিক, মালয়েশিয়া বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক, বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত মো. মোশারফ হোসেন।
তবে নেতাকর্মীদের দাবি বিএনপি থেকে আ ন ম এহসানুল হক মিলনেরই মনোনয়ন পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। যদি কোন কারণে মিলন নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী মনোনয়ন পেতে পারেন।
এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ, চাঁদপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. শহীদুল হক এবং দলের নেতা ইমদাদুল হক রোমন।
সম্ভাব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগ-বিএনপির লড়াই বেশ জমে উঠবে বলে ভোটাররা দাবি করছে। তবে তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দেখতে চান। তাহলেই একটি নতুন কচুয়ার প্রত্যাশা করতে পারবে তারা। আর এটা কেবল প্রার্থী পরিবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব বলে স্থানীয় ভোটাররা দাবি করছে।
